ভুল করে আবিষ্কার হওয়া বিখ্যাত কিছু খাবার

সঠিক কাজ করলেই তবে সবসময় সুনাম পাওয়া যায়। কিন্তু ভুলের জেরেও অনেকেই বিখ্যাত হয়ে যেতে পারেন। এমন বহু জিনিস রয়েছে যা আমাদের জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। আবার কিছু জিনিস রয়েছে যা দৈনন্দিন প্রয়োজনে না এলেও এর গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু অবাক হয়ে যাবেন যখন জানবেন সেই অতি পরিচিত জিনিসগুলির আবিষ্কার কীভাবে হয়েছে।

ভুলের মাঝেই তৈরি হয়ে গিয়েছে এমন কিছু জিনিস যা আমাদের কাছে শুধু পরিচিত নয় মানবজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণও বটে। চোখ বুলিয়েই দেখে নিন ভুলের মাঝে তৈরি হওয়া সেসব জিনিস গুলোঃ

পটেটো চিপস

দুনিয়ায় এমন অনেক জিনিস জনপ্রিয়তার চূড়া ছুঁয়েছে যার জন্ম হয়েছিল আকস্মিকভাবে। এভাবেই রেস্তোরাঁর আসা এক বদমেজাজি গ্রাহককে শায়েস্তা করতে তৈরি হয় পটেটো চিপস।

রেস্তোরাঁটির যথেষ্ট সুনাম ছিল। কাছেই ছিল একটা চোখ জুড়োনো ঝর্ণা। রেস্তোরাঁটির আরও নামডাক ছিল তার দারুণ খাবারের জন্য। আর সেই সুনামের সবচেয়ে বড় ভাগীদার ছিলেন এই রেস্তোরাঁর শেফ।

জর্জ ক্রাম নামে ওই শেফের কাছে একদিন এক অর্ডার আসে। এক গ্রাহক আলু ভাজার অর্ডার দেন। ক্রাম আলু ভাজা তৈরি করে ডিশে সাজিয়ে পাঠান।

পটেটো চিপস
পটেটো চিপস

ক্রাম এতটাই ভাল রান্না করতেন যে তিনি নিজেও বিশ্বাস করতেন তাঁর বানানো ডিশ স্বাদে, গন্ধে অতুলনীয় হয়। আর তা খেয়ে কেউ বদনাম করতে পারবেননা। কিন্তু সেদিন সেটাই হল।

ওই বদমেজাজি গ্রাহক রেস্তোরাঁর ওয়েটারকে ডেকে সাফ জানালেন এমন মোটা মোটা করে তেল চবচবে আলু ভাজা তাঁর একদম ভাল লাগেনি। তিনি আরও একটি ভাল করে আলু ভেজে আনার জন্য অর্ডার দেন।

ওই গ্রাহকের অভিযোগ শোনার পর ক্রাম এতটাই রেগে যান যে তিনি স্থির করেন পরের প্লেটে তিনি এমন আলু ভাজা খাওয়াবেন যে বাছাধন টের পাবে।

ক্রাম এবার আলুগুলোকে যতটা পারা যায় ততটা পাতলা করে কাটলেন। তারপর বেশিক্ষণ ধরে সেগুলো ভাজলেন। এবার সেগুলো প্লেটে ঢেলে তাতে ভাল করে নুন ছড়িয়ে দিলেন। মোটকথা তাঁর লক্ষ্যই ছিল ওই গ্রাহককে উচিত শিক্ষা দেওয়া।

প্লেট গ্রাহকের কাছে পৌঁছল। এমন আলু ভাজা তিনি কেন কেউ কখনও দেখেননি। তিনি একটা মুখে তুললেন। তারপর এক এক করে সব শেষ করে দিলেন। জর্জ ক্রামের তো মাথায় হাত। কি করতে গেলেন আর কি হল!

এদিকে ওই বদমেজাজি ভুল ধরা গ্রাহকও ওই আলু ভাজা খেয়ে একেবারে আপ্লুত। এরপর ওই পাতলা করে আলু ভাজা খাওয়ার জন্য ভিড় জমতে শুরু করল নিউ ইয়র্কের সারাটোগা ঝর্ণার কাছের রেস্তোরাঁয়।

গ্রাহককে শায়েস্তা করতে গিয়ে জর্জ ক্রাম সেদিন বিশ্বখ্যাত এক খাবার বানিয়ে ফেলেছিলেন। নাম পটেটো চিপস। যদিও ক্রামের সেই পটেটো চিপসের প্রথমে নাম ছিল সারাটোগা চিপস। পরে তা পটেটো চিপস হয়ে যায়।

কর্নফ্লেক্স

জন এবং উইল, দুই কেলগ ভ্রাতা ভুলবশত কর্ন ফ্লেক্স-এর আবিষ্কার করে ফেলেন। রোগীদের জন্য শস্যদানা সিদ্ধ করার জন্য আঁচে রেখে যান। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসে দেখেন শস্যদানাগুলির জরাজীর্ণ অবস্থা। 

কর্নফ্লেক্স
কর্নফ্লেক্স

তখন ন্যূনতম বাজেটেই কাজ সারতে হত। তাই ওই শস্য়দানা ফেলে না দিয়ে উইল ভেবেছিলেন বেলন দিয়ে বেলে নিয়ে রুটির মতো বানিয়ে দেবেন। কিন্তু তৈরি হয়ে গেল ফ্লেক্স। তারপর তা টোস্ট করেই রোগীদের খেতে দেওয়া হয়েছিল। এভাবেই তৈরি হয় কর্ন ফ্লেক্স।

চুইংগাম 

চুইংগামের সঙ্গে আমাদের পরিচয় নেই—এমন দাবি খুব কম মানুষই করতে পারবে। চলতি পথে, খেলার মাঠে চুইংগাম আমাদের পরিচিত সঙ্গী। এর আবিষ্কারক আমেরিকার টমাস অ্যাডামস। সাপোডিলা গাছের আঠা জাতীয় নির্যাস জমাট করে রাবার বানানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। 

চুইংগাম
চুইংগাম

অনেক চেষ্টা চরিত্রের পর কিছুই যখন দাঁড় করাতে পারছিলেন না তখন অন্যমনস্ক হয়ে সেটা মুখে পুরে ফেলেন। তারপর দেখলেন আরে এ তো মন্দ লাগছে না। আবার ফুরুচ্ছেও না সহজে। এরপর তাতে নানা সুস্বাদু উপকরণ মিশিয়ে চুইংগামের এক বিশাল কারখানাই খুলে বসেন ভদ্রলোক।

কফি

কফি আবিষ্কারের গল্পটা আরো চমকপ্রদ। ইথিওপিয়ার কালদি নামের এক মেষ পালক। ছাগল চড়াতে গিয়ে একদিন লক্ষ্য করেন অন্য দিনের তুলনায় তার ছাগলগুলো রীতিমতো উত্তেজিত, বলা যায় দাপাদাপি করছে। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে কালদি এক রকম বুনো ফল খুঁজে পান। যেটা খেয়ে ছাগলের এই অবস্থা। তারপর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এই বুনো ফলের কথা। সেই ফলই আজকের কফি বিন।

কফি
কফি

তবে এর আরেকজন আবিষ্কর্তা মনে করা হয় ইয়েমেনের শেখ ওমর নামের নির্বাসিত এক ভদ্রলোককে। বনের মধ্যে ক্ষুধায় যখন তার মরমর অবস্থা তখন তিনি এই বুনো ফল চোখে দেখেন এবং খেয়ে ফেলেন। তারপর তো তিনি রীতিমতো ফিট।

You may also like...

Leave a Reply